Sunday, December 17, 2017

২০১৭ সালের জনপ্রিয় অ্যাপস

২০১৭ সালের জনপ্রিয় অ্যাপস

popular social media ranking

রাসুলুল্লাহ’র এক ঐতিহাসিক পত্র

রাসুলুল্লাহ’র এক ঐতিহাসিক পত্র

letter to heraclius

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধররা

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধররা


এনামুল হক : প্রতিভাধর হওয়া আর অতি বুদ্ধিমান হওয়া দুটো আলাদা ব্যাপার। অতি বুদ্ধিমান ভূরি ভূরি আছে। তাতে খুব একটা যায় আসে না। আসল বিষয় হলো সৃজনশীলতা থাকা। কল্পনাকে যে কোন পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করার ক্ষমতা থাকা। প্রতিভাধর ব্যক্তিদের সেই বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে। এখানেই প্রতিভাধরদের সঙ্গে অতি বুদ্ধিমানদের পার্থক্য।

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের কথাই ধরা যাক। তার অত বিশ্লেষণধর্মী ক্ষমতা ও দার্শনিক গভীরতা ছিল না। তথাপি আমেরিকার আলোকায়নের যুগে তিনি নিজেকে শ্রেষ্ঠ আবিষ্কারক কূটনীতিক, বিজ্ঞানী, লেখক ও ব্যবসা স্ট্র্যাটেজিস্টে পরিণত করেছিলেন। ঘুড়ি উড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, আকাশের বজ্র হলো বিদ্যুত। সেই বজ্রকে বশে আনার জন্য তিনি একটা বড় উদ্ভাবন করেছিলেন। বের করেছিলেন বিশুদ্ধ জ্বালানি স্টোভ, উপসাগরীয় স্রোতের গতিপথ, বাইফোকাল গ্লাস, মনোমুগ্ধকর বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি।

এলবার্ট আইনস্টাইনও একই পথ অনুসরণ করেছিলেন। ছোটবেলায় কথা বলা শিখতে দেরি করেছিলেন। এতই দেরি যে বাবা-মা তাকে ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। বাড়ির পরিচারিকা তাকে বলত হাবাগোবা। এক আত্মীয় বলত নির্বোধ। কর্তৃত্বের প্রতি তার এক বিদ্রোহীভাব কাজ করত যার জন্য এক স্কুলশিক্ষক তাকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু কর্তৃত্বের প্রতি অবজ্ঞা থেকেই তিনি প্রচলিত জ্ঞান ও ধারণা সম্পর্কে এমন সব প্রশ্ন তুলতেন যা শিক্ষাঙ্গনের অতি শিক্ষিত লোকেরাও কখনও চিন্তা করেনি। কথা বলতে শেখার কারণে ধীরগতির জন্যই প্রতিটি ঘটনাকে তিনি অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেতেন, যেগুলো অন্যরা ধ্রুব বলে মেনে নিত।

আইনস্টাইন একদা বলেছিলেন : ‘সাধারণ প্রাপ্তবয়স্করা স্থান ও কালের সমস্যা নিয়ে কখনও মাথা ঘামাত না। কিন্তু আমার বিকাশ এত ধীরে ধীরে হয়েছিল যে, আমি যখন ইতোমধ্যে বড় হয়ে উঠেছি সে সময়ই আমি স্থান ও কাল নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে শুরু করেছিলাম।’ সে কারণেই জুরিখ পলিটেকনিকে তার ক্লাসের ৫ জন ছাত্রের মধ্যে তিনি চতুর্থ হিসেবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর সুইস পেটেন্ট অফিসে একজন তৃতীয় শ্রেণীর পরীক্ষক হিসেবে খেটে মরার সময়ই আইনস্টাইন সমকালীন পদার্থ বিজ্ঞানের দুটি মৌলিক তত্ত্ব নিয়ে হাজির হয়ে বিশ্বজগত সম্পর্কে আমাদের ধ্যান-ধারণার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছিলেন। সে দুটি হলো আপেক্ষিক তত্ত্ব ও কোয়ান্টাম তত্ত্ব। আর তা করতে গিয়ে তিনি ‘দি প্রিশ্মিপিয়া’ গ্রন্থে আইজ্যাক নিউটনের বর্ণিত অত্যতম মৌলিক একটি ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন। আর সেটা হলো আমরা যেভাবেই দেখি না কেন সময় সেকেন্ডে সেকেন্ডে এগিয়ে চলে। আজ আইনস্টাইনের নাম তাই অসাধারণ প্রতিভার সমার্থক।

ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃজনশীল প্রতিভাধর বলা যেতে পারে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিকে। তার মানে অবশ্যই এই নয় যে। তিনি সবচেয়ে বুদ্ধিমান ছিলেন। না, নিউটন বা আইনস্টাইনের মতো অতি মানবিক তাত্ত্বিক মেধাশক্তি তার ছিল না কিংবা তার বন্ধু লুকা প্যাসিওলির মতো গাণিতিক ক্ষমতাও তার ছিল না। কিন্তু ভিঞ্চির রোম্বিকুবোক টেহিড্রোনস এবং কয়েক ডজন আরও অন্যান্য বহুমুখী জ্যামিতিক আকারের ছবি বাস্তব রূপ লাভ করে যেগুলো ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কালক্রমে তিনি ভূগোল, এনাটমি ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই কাজ করেন। তার ‘ভাইট্রুবিয়ান ‘ম্যান’ ড্রয়িংটি ছিল স্মরণীয় যার জঠরে ছিল ভ্রণ। এ ছাড়াও তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ কিছু শিল্পকর্ম তৈরি করে গেছেন।

বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে জন্ম হওয়ায় ভিঞ্চি প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার সুযোগ পাননি। তিনি বহুলাংশেই ছিলেন স্বশিক্ষিত। আইনস্টাইনের মতো কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও তার একটা সমস্যা ছিল। তিনি প্রচলিত জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং মধ্যযুগীয় গোঁড়ামিকে অগ্রাহ্য করতে শিখেছিলেন। তিনি মনে করতেন যে অভিজ্ঞতা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়েই প্রকৃত জ্ঞান লাভ করা যায়। সমস্যা-সমাধান বের করার এই পদ্ধতিটা কোন অংশেই কম বিপ্লবাত্মক ছিল না। এক শতাব্দী পর ফ্রান্সিস বেকন ও গ্যালিলিও গ্যালিলি এই একই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার এই পদ্ধতি অনুশীলনের কারণে দ্য ভিঞ্চির স্থান সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের ওপরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। মেধাবীরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছে থাকে, যে কারণে অন্য আর কেউ পৌঁছতে পারে না। প্রতিভাবানরা সেই লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে থাকে, যা অন্য আর কেউ দেখতে পারে না।

ভিঞ্চির সবচেয়ে প্রেরণাদায়ক বৈশিষ্ট্য ছিল তার কৌতূহল। নিজের নোটবইতে তিনি উত্তর খুঁজে বের করতে হবে, এমনি হাজারো প্রশ্ন লিখে রেখেছিলেন। যেমন একটা বৃত্তকে কিভাবে চতুষ্কোণ দিয়ে আকৃত করা যায়। এয়োর্টিক ভাল্ব কেন বন্ধ হয়ে যায়, আলো কিভাবে চোখে প্রক্রিয়াজাত হয় এমনি অসংখ্য প্রশ্ন। তার মহৎ লক্ষ্য ছিল আমাদের এই মহাবিশ্ব এবং সেখানে আমরা কিভাবে আছি সেই বিষয়সহ সবকিছুই জানার চেষ্টা করা। আকাশের রং কেন নীল এই প্রশ্ন ছোটবেলা থেকেই আমাদের জাগে। এক পর্যায়ে আমরা এ নিয়ে চিন্তা করা ছেড়ে দেই। দ্য ভিঞ্চি এ নিয়ে তার নোট বইয়ে পাতার পর পাতা লিখে গেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কিভাবে পানির বাষ্পে আলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে নীল রঙের এক কুহেলী শেড তৈরি হয়। আইনস্টাইনও এই প্রশ্ন নিয়ে ধাঁধায় পড়েছিলেন। তিনি আলোর বর্ণালীর বিক্ষিপ্তরূপে ছড়িয়ে পড়ার এক গাণিতিক সূত্র দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন।

দ্য ভিঞ্চি কখনই পর্যবেক্ষণ থেকে ক্ষান্ত হননি। অনেক ছোটখাটো ব্যাপারও তিনি লক্ষ্য করতেন যা আমরা সাধারণ মানুষরা খেয়াল করি না। যেমন পাত্রে পানি ঢালার সময় তিনি দেখতেন কেমন করে ঘূর্ণি সৃষ্টি হয়। ঘোড়ায় চড়ে বেড়ানোর সময় তিনি বায়ুর ঘূর্ণি পরীক্ষা করতেন। এসব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি তুলির টানে অসাধারণ কিছু শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছিলেন, ব্যাপ্টিজম অব ক্রাইস্ট ছবিতে যিশুর পায়ের গোড়ালিতে জর্দান নদীর জলরাশির লহরীর স্পর্শ কিংবা ডিলিউজ বা মহাপ্লাবন হলো তার এমনি ধরনের কিছু শিল্পকর্ম। তিনিই প্রথম ব্যাখ্যা করেছিলেন কিভাবে হৃদপিন্ডের রক্তের আবর্তের কারণে এয়োর্টিক ভাল্ব বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর অঙ্কিত ‘ভাইট্রবিয়ান ম্যান’ হচ্ছে শরীরবৃত্তীয় সূক্ষ্মতার সঙ্গে বিস্ময়কর সৌন্দর্যের সংমিশ্রণ। বিজ্ঞান ও শিল্পকলার মধ্যে যে যোগসূত্র এটাই তার এক চমৎকার নজির।

কিছু কিছু মানুষ একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। যেমন গণিতে লিওনহার্ড ইউলার কিংবা সঙ্গীতে মোজার্ট। তবে সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক প্রতিভাধর হলেন তারাই যারা প্রকৃতি জুড়ে অনন্ত সৌন্দর্যের মধ্যে একটা ধারা বা ছন্দ দেখতে পান। দ্য ভিঞ্চির প্রতিভা নানা ক্ষেত্র জুড়ে ব্যপ্ত। তিনি বিশীর্ণ দেহগুলোর মুখমন্ডল থেকে মাংস ছড়িয়ে নিয়ে যে পেশীর সাহায্যে ঠোঁট দুটো নড়ে সেটি অঙ্কন করে তারপর বিশ্বের সবচেয়ে স্মরণীয় হাসি সৃষ্টি করেন। এটাই বিখ্যাত মোনালিসার হাসি। তিনি মানব করোটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান, হাড়গোর ও দন্তবাজি স্তরে স্তরে আঁকেন এবং এভাবে সেন্ট জেরোম এই ওয়াইল্ডারনেস ছবিতে সেন্ট জেরোমের দুঃখ-বেদনা-যন্ত্রণা ফুটিয়ে তুলেন। তিনি অপটিক্সের গণিত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে কিভাবে আলোক রশ্মী কর্ণিয়ার গায়ে আঘাত হেনে ঐন্দ্রজালিক ইলিউশন তৈরি করে সেটা তিনি দেখিয়েছেন ‘দি লাস্ট সাপার’ চিত্রকর্মে।

প্রতিভাধর হিসেবে মানব সভ্যতার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন কার্ল বঞ্চ। জিন বিজ্ঞানী এবং জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি ক্রিসপারের পথিকৃৎ জর্জ চার্চ অন্তত তাই মনে করেন। বড় বড় অনেক রসায়নবিদ যার হিসেবে ব্যবহারের জন্য নাইট্রোজেন গ্যাসকে এ্যামোনিয়ায় রূপান্তরের ব্যবহারিক প্রক্রিয়া খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হওয়ার পর কার্ল বঞ্চ পেরেছিলেন। তার এই উদ্ভাবন মানবজাতির খাদ্য উৎপাদন পদ্ধতিতে বিপ্লব এনে দিয়েছে। আজ বিশ্বের ৭৫০ কোটি মানুষের মুখে পর্যাপ্ত খাদ্য যোগাতে বিপুল ফসল উৎপাদনে এ্যামোনিয়া যে কি বিশাল ভূমিকা রাখছে তা হয়ত আমরা কেউ ভেবেও দেখছি না।

আরেক অসাধারণ প্রতিভাধর মাদাম কুরি। ১৯০৩ সালে ড. কুরি ও তার স্বামী পিয়েরে এটমের অদৃশ্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার জন্য পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয় করেন। কুরিই প্রথম এটমের এই বৈশিষ্ট্যর নাম রাখেন রেডিওএ্যাকটিভ বা তেজস্ক্রিয়। ১৯১১ সালে কুরি রেডিয়াম ও পোলোনিয়ামের উপাদানাবলী আবিষ্কারের জন্য দ্বিতীয়বার নোবেল পুরস্কার জেতেন এবং পারমাণবিক রসায়নের যুগের দুয়ার খুলে দেন। তার কন্যা ইরিন জুলিও কুরিও ১৯৩৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।

শ্রেষ্ঠ প্রতিভাধরদের তালিকায় স্টিভ জবসকে অন্তর্ভুক্ত না করলেই নয়। এই মার্কিন উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবককে পার্সোনাল কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ বলা হয়। অনেকটা আইস্টাইনের মতো তিনিও কোন সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে হিমশিম খেলে ভায়োলিন বের করে সুর বাজাতেন। জবস বিশ্বাস করতেন, সৌন্দর্যের গুরুত্ব আছে এবং শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও মানবিক বিষয় সবার মধ্যে, সম্পর্কযুক্ত থাকা উচিত। জবস ভারতে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ লাভের জন্য এসেছিলেন। এর ফলে ম্যাকিনটোস থেকে শুরু করে আইফোন পর্যন্ত তার তৈরি প্রতিটি পণ্যের মধ্যে এমন সৌন্দর্য ছিল যা ছিল চরিত্রগতভাবে প্রায় আধ্যাত্মিক।

সূত্র : টাইম

জেরুজালেম ইস্যু মুসলিমদের সংহতি কতটা বাড়বে

জেরুজালেম ইস্যু মুসলিমদের সংহতি কতটা বাড়বে


IS retreat from iraq-syriaমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদক্ষেপ হয়ত আরব ও মুসলিম দুনিয়াকে নতুন করে সচেতন করে তুলতে পারে যে ওই এলাকায় শান্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমেরিকার যে ধ্যানধারণা তাদের হয়ত সে ব্যাপারে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। এখন যখন তারা বুঝতে পারছে যে আমেরিকা ইসরোয়েলেরই পক্ষ নিচ্ছে, তখন তাদের মনে হতে পারে যে তাদের অনুভূতি বা আবেগের তোয়াক্কা যুক্তরাষ্ট্র করে না অথবা ওই এলাকার স্থিতিশীলতা নিয়ে আমেরিকার মাথাব্যথা নেই।
যে বিষয়টাতে মুসলিম বিশ্ব সবসময়েই অখণ্ড মনোভাব পোষণ করে এসেছে সেটা হল ফিলিস্তিনি ইস্যু। সিরিয়া নিয়ে তাদের মতভেদ থাকতে পারে, ইরাক নিয়ে তাদের মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু যখন ফিলিস্তিনের বিষয় আসে এবং বিশেষ করে পবিত্র স্থান জেরুজালেম প্রসঙ্গে তারা অভিন্ন অবস্থান নেয়। সামনের দিকে তাকাতে হলে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর একটা প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা যেতে পারে, যেখানে এই ইস্যুতে অভিন্নতা প্রধান হয়ে উঠতে পারে এবং একটা প্রতীকী পর্যায়ে মুসলিম বিশ্বের সংহতি আরও জোরালো করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে, এবং তেল আভিভ থেকে জেরুজালেমে আমেরিকা দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।
এটা অবশ্য নতুন কোন ইস্যু নয়। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে আরেকটা ইন্তিফাদা যে হবে এটা ভাবা অযৌক্তিক কিছু নয়। হামাস ইতিমধ্যেই অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে। মুসলিম দুনিয়ায় একটা বিশ্বাস দানা বেঁধেছিল যে একটা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের মধ্যে দিয়ে সমাধানের একটা পথ, একটা শান্তিপূর্ণ সমঝোতার পথ হয়ত তৈরি হয়েছে। কিন্তু অসলো চুক্তির ২৩ বছর পর আসলে কিছুই হয়নি। পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেমে ৮ লক্ষ ইসরায়েলি বসতি তৈরি হয়েছে। কাজেই এই সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের বদলে তার যে পুরোপুরিই মৃত্যু ঘটেছে এ ব্যাপারে এখন কারো মনেই যে আর সন্দেহ নেই সেটা বলা যায়।
আমাদের এখন মধ্য প্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ের মধ্যে থাকার কথা। এখন ট্রাম্প কীভাবে সেটা করবেন এবং একই সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়াকে কীভাবে তিনি রক্ষা করবেন? এটা যে অসম্ভব এখন সে ধারণাটাই প্রকট হচ্ছে। জেরুজালেমের ভবিষ্যত রয়েছে এর মূলে। ইসরায়েলিদের কথা ভেবে যদি জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে শান্তি আলোচনায় ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাপ করার জন্য কী বাকি থাকবে? অদূর ভবিষ্যতে এর একটা পরিণাম দেখা যাবে। প্রতিবাদ বিক্ষোভ হবে, সহিংসতার হুমকি রয়েছে, আরেকটি ইন্তিফাদা হতে যাচ্ছে।
এরপরেও কী ফল হবে তা স্পষ্ট নয়। শুধু যেটা স্পষ্ট সেটা হল মানুষ ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভে সামিল হয়েছে ৫৬টি মুসলমান প্রধান দেশের ১৫০কোটি মানুষ, যা বিশ্বের জনসংখ্যার ২২ শতাংশের বেশি। কারণ মক্কা আর মদিনার পর জেরুজালেম তাদের সবার জন্য পবিত্র একটি স্থান। এটা একটা অপমান এবং এর পেছনে কোন যুক্তি নেই।
আমেরিকা কেন তার দূতাবাস সরিয়ে নিতে চাইছে, আর সেটা এখন কেন চাইছে? আসলে একটা পরাশক্তি চাইছে ইসরায়েলের যুক্তিকে স্বীকৃতি দিতে এবং সেই স্বীকৃতি তারা দিচ্ছে এমন একটা স্থানকে ঘিরে যেটা মুসলমানরা মনে করে পবিত্র এবং যেটা তাদের একান্ত নিজস্ব। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত কি অন্য মতানৈক্যকে জোড়া দেবে? ৫৬টি মুসলিম প্রধান দেশের মধ্যে বহু বড় ধরনের মতানৈক্য আছে। সেগুলো সূক্ষ্ম, ব্যাপক এবং জটিল। জেরুজালেম ইস্যুর থেকেও সেগুলো অনেক বড়। বেশির ভাগ মুসলমান প্রধান দেশ জেরুসালেম প্রশ্নে তাদের মতভেদ দেখাবে না কারণ ওই শহর মুসলমানদের জন্য অভিন্ন গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু এসব বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে যা কাটিয়ে ওঠা যাবে না।
অন্য যে বিষয়ে বড় ধরনের পরস্পর বিরোধিতা তৈরি হল, সেটা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমেরিকার লড়াইয়ের ক্ষেত্রে। পশ্চিমা দেশগুলো ইসলামী জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। (না, এটা বিবিসি’র মিথ্যাচার; সবাই এখন জানে, ইসলামী জঙ্গীবাদ তৈরী করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা-বিশ্ব ) কিন্তু ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিলেন তা হল আল-কায়েদা এবং ইসলামিক স্টেটের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার এবং সবচেয়ে ভাল অস্ত্র। এই দলগুলো এখন ভাবতেই পারে যে “দেখ, যে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা ইরাকে এবং সিরিয়ায় আমাদের শক্তি ধ্বংস করে দেবার পর এখন ইসরায়েলিদের পুরস্কৃত করছে, আরবদের নয়।” এর ফলে আমাদের এলাকায় সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, তার ঢেউ ইউরোপ এবং আমেরিকায় গিয়েও পৌঁছতে পারে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেবার পরিণামে সেখানে “প্রতিশোধমূলক তৎপরতা” চালানো হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত জঙ্গীদের অনুকূলে কাজ করতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যারা মিত্র আছে, যেমন মিশর, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমীরাত এই সিদ্ধান্ত তাদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
আমি মনে করি এই সিদ্ধান্তে হিতে বিপরীতই হতে পারে। ফিলিস্তিনি ইস্যুতে এটা হয়ত মানুষকে মাঠের আন্দোলনে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারবে। তবে একটা সংহতি গড়ে তোলার বদলে এর ফলে ওই অঞ্চল আরও অশান্ত হয়ে উঠবে। এর বিপরীতমুখী দিকটা হল:”এই পদক্ষেপ বিভিন্ন মুসলিম দেশের মানুষকে হয়ত একটা অভিন্ন জায়গায় নিয়ে আসতে সাহায্য করবে, কিন্তু একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ উগ্রবাদ এবং জঙ্গী আদর্শকে আরও উদ্বুদ্ধ করতেও সাহায্য করবে।”
Source:
https://amin20002000us.wordpress.com/category/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE/

মহান বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মহান বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিজয় দিবসের দিন সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে তাঁরা স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন।
national memorial 16 december
জানা গেছে, সকাল ছয়টা ৪৮ মিনিটের দিকে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সামরিক ও বেসামরিক পদের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও।
এরপরই সর্বস্তরের জনতার জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এ সময় শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে যায়।
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন এলাকার রাস্তায় সকাল থেকেই দেখা দেয় প্রচণ্ড যানজট। নানা দিক থেকে স্মৃতিসৌধের দিকে জনতার ঢলেরক কারণেই মূলত এই যানজটের সৃষ্টি হয়।

Saturday, December 16, 2017

শসা ও মুলা’র পুষ্টগুণ

শসা ও মুলা’র পুষ্টগুণ



cucumber or raddish

ঢাকা’র এপোলো হাসপাতালে এক ভুক্তভোগী’র তিক্ত & অভিজ্ঞতা

ঢাকা’র এপোলো হাসপাতালে এক ভুক্তভোগী’র তিক্ত& অভিজ্ঞতা 




 ভবিষ্যতে কেউ যদি ঢাকা এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন তাহলে দয়া করে একটু ভেবেচিন্তে আসবেন। এই হাসপাতাল হাসপাতাল না, এটা চিকিৎসার নামে একটা সম্পূর্ণ অনৈতিক, বাণিজ্যিক ধান্দা বাজির একটা বিশাল দালান।

আমার স্ত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে, ভয় পাইয়ে দিয়ে তারা আমার সম্পূর্ণ সুস্থ শিশুকে এক মাস আগে জন্ম দেয়ালো কোনো কারণ ছাড়াই। বলল বাচ্চার ওজন অনেক বেশি, আর আগে জন্ম হলে তাদের জন্য ম্যানেজ করা সহজ হবে। জন্মের পর দেখা গেল বাচ্চার ওজন অনেক কম এবং তাকে ইনকিউবেটরে রাখতে হবে। পরে বুঝলাম “ম্যানেজ” মানে হল শুধু মাত্র বিল বাড়ানোর জন্য আমাদেরকে আগে বাচ্চা জন্ম দেয়ালো।
একদিনের ভুমিষ্ট বাচ্চাকে এন্টিবায়োটিক, অক্সিজেন ইত্যাদি দিয়ে এক ভীতিকর অবস্থার সৃস্টি করল, বলল ইনফেকশন হতে পারে, ব্লাড কালচারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৭২ ঘণ্টা, পুরা সময় বাচ্চা ইন্টেন্সিভ কেয়ারে থাকবে। ৭২ ঘন্টা পর রিপোর্ট আসলো কোনো ইনফেকশন নাই। কেন একদিনের বাচ্চাকে ইঞ্জেকশন দিয়ে তিনদিন আইসিঊ তে রাখা হল? কোনো উত্তর নাই। ফাইল দেখতে চাইলে বলল রিলিজের আগে দেখানোর নিয়ম নাই। পুরো নাটকটি তাদের সাজানো।
তারাই প্রথমে আমাদেরকে আগাম ডেলিভারী দিতে বাধ্য করল এই বলে বাচ্চার ওজন অতিরিক্ত, যাতে করে কিছু পয়সা অতিরিক্ত খসাতে পারে। কেনো তারা একটা বাচ্চার জীবন বিষিয়ে তুলে এই কাজটা করল? একবার ভাবলাম আমি ভুল করছি। পরে মেটারনীটি ডিপার্টমেন্টে দেখলাম তারা এই কাজ শতকরা ৬০% রোগীকে করাচ্ছে। যেই ডিপার্টমেন্ট সবচেয়ে হাসি খুশির জায়গা হওয়ার কথা সেখানে বিরাজ করছে এক ভীতিকর পরিস্থিতি। প্রত্যেক নতুন বাবা মার চোখে ব্যপক আতংক।
অন্য একজনের সাথে পরিচিত হলাম, বল্লেন তার ভাইকে অস্ত্রপচার করতে প্রাথমিক ভাবে অসফল হয় হাসপাতাল, পরে ভুল স্বীকার করে আবার করে। কিন্তু বিল ঠিকই ডাবল করছে। এখানে এমনও অভিযোগ আছে মৃত রোগি আনলে তারা তাকে দুইদিন ইন্টেন্সিভ কেয়ারে রেখে দেয়, এবং এর প্রমানও পাওয়া গেছে। পরে একটু অনুসন্ধান করতে বার্ষিক রিটার্ণ দেখলাম, চক্ষু চড়ক গাছ। তারা ২০১১ সালেই মুনাফা করে ২৬ কোটি টাকা! আয়ের শতকরা ৪০% আসে গাইনি ও অবস্ট্রেট্রিকস ডিপার্টমেন্ট থেকে!
সুতরাং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এপোলো হাসপাতালে যারা আসবেন তারা দয়া করে ভেবেচিন্তে আসবেন। এই কসাইখানা ব্যবসা চট্টগ্রামে যাওয়ার পায়তারা করছে এবং স্বল্প মূল্যে সিডিএ থেকে জমিও কিনেছে মানবিক প্রতিষ্ঠান নাম করে। এই এপোলো হাসপাতাল হল ব্যবসায়ী এম পি টিপু মুন্সি, শান্তা গ্রুপের মালিক, আর লংকা বাংলা ফাইনান্সের যৌথ প্রযোজনার এক ধান্দা বাজির দোকান যার প্রাতিষ্ঠানিক নাম এস টি এস হোল্ডিং লিঃ তারা ভারতের তৃতীয় শ্রেনীর কিছু ডাক্তার এপোলো গ্রুপের সাথে যৌথ চুক্তির আওতায় এনে জনগণের সাথে ভাওতাবাজির এক ব্যাপক আয়োজন করেছে।
ভারতে এই ডাক্তারগুলোকে কেউ চেনা দুরে থাক চাকরি ও দেবে না। দূর্ভাগ্যের বিষয়,এই ব্যপক লূটতরাজ দেখার, নিয়ন্ত্রন করার সংস্থা (বিএমডিসি, ডীজি হেলথ) একেবারই নিস্ক্রিয়। তাই ঢাকা এপোলো হাসপাতালে আসার আগে সুচিন্তিত স্বিদ্ধান্ত নিন।

Source: https://amin20002000us.wordpress.com/2017/12/09/%E0%A6%A2%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%8F%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%95/